
কওমি ও আবাসিক মাদ্রাসার বার্ষিক বাজেট প্রণয়ন ও তহবিল বণ্টন গাইডলাইন
কওমি ও আবাসিক মাদ্রাসার বাৎসরিক আয়-ব্যয় বাজেট প্রণয়ন, সম্ভাব্য রাজস্ব প্রাক্কলন, ফান্ড ভিত্তিক সুষম বরাদ্দ এবং শূরার নিকট বাজেট উপস্থাপনের পূর্ণাঙ্গ প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখা।
কওমি ও আবাসিক মাদ্রাসার বাৎসরিক আয়-ব্যয় বাজেট প্রণয়ন, সম্ভাব্য রাজস্ব প্রাক্কলন, ফান্ড ভিত্তিক সুষম বরাদ্দ এবং শূরার নিকট বাজেট উপস্থাপনের পূর্ণাঙ্গ প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখা।
একটি দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব, আত্মনির্ভরশীলতা এবং নির্বিঘ্ন পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা নির্ভর করে তার দূরদর্শী অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও সুশৃঙ্খল বাজেটিং ব্যবস্থার ওপর। প্রতি শিক্ষাবর্ষের শুরুতে সম্ভাব্য রাজস্ব আয় (ছাত্রদের বেতন, অনুদান, ওয়াকফ সম্পত্তি) এবং সম্ভাব্য অপরিহার্য ব্যয় (শিক্ষক-কর্মচারীদের সম্মানী, মেসের খাদ্য ভর্তুকি, ইউটিলিটি বিল ও অবকাঠামোগত সংস্কার)-এর একটি যৌক্তিক ভারসাম্য তৈরি করা পরিচালনা কমিটির প্রধান দায়িত্ব। অপরিকল্পিতভাবে মাদ্রাসা পরিচালনা করলে বছরের মাঝামাঝি সময়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট, শিক্ষকদের বেতন বকেয়া এবং মেস ফান্ডে বিশাল ঘাটতি তৈরি হয়।
মাদ্রাসার বার্ষিক বাজেট প্রণয়ন ও তহবিল বণ্টন (Madrasa Annual Budgeting & Financial Allocation) হলো এমন একটি সমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক অর্থনৈতিক রূপরেখা, যার মাধ্যমে হিজরি ও বাংলা শিক্ষাবর্ষের মোট সম্ভাব্য আয়কে বিভিন্ন সুনির্দিষ্ট খাতে (জেনারেল ফান্ড, লিল্লাহ বোর্ডিং, শিক্ষক কল্যাণ, ভবন নির্মাণ ও রিজার্ভ ফান্ড) বৈজ্ঞানিক ও শরয়ী নীতিমালার আলোকে বণ্টন করা হয়। JamiaSoft ক্লাউড ফিন্যান্স মডিউল ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিটি খাতের জন্য মাসিক ও বাৎসরিক বাজেট ক্যাপ (Budget Cap) নির্ধারণ করা যায়, যার ফলে কোনো খাতে অতিরিক্ত ব্যয়ের ঝুঁকি থাকে না এবং রিয়েল-টাইম ড্যাশবোর্ডে আয়ের সাথে ব্যয়ের শতকরা অনুপাত দেখা যায়। এর ফলে প্রতিষ্ঠানে শতভাগ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হয়।
বাজেট প্রণয়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি টাকার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং অপচয় রোধ করা দ্বীনি আমানত রক্ষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপায়।
১. মাদ্রাসার বার্ষিক বাজেটের প্রধান ৫টি মৌলিক উৎস ও আয় প্রাক্কলন
একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের আয়ের প্রধান প্রধান খাতসমূহ:
- •১. শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও আবাসিক ফি: নতুন ছাত্র ভর্তি ফি, মাসিক টিউশন ফি, আবাসিক খোরাকি ও পরীক্ষার ফি থেকে সংগৃহীত নিয়মিত আয় (মোট বাজেটের প্রায় ৪০–৫০%)।
- •২. সাধারণ শুভাকাঙ্ক্ষীদের এককালীন ও মাসিক অনুদান: স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও দানশীল ব্যক্তিদের স্বতঃস্ফূর্ত সাদাকাহ ও মাসিক দাতা ফোরামের চাঁদা।
- •৩. যাকাত, ফিতরা ও কুরবানির চামড়া তহবিল: লিল্লাহ বোর্ডিং ও দরিদ্র এতিম ছাত্রদের খাদ্য ও চিকিৎসার জন্য সংগৃহীত শরয়ী অনুদান।
- •৪. ওয়াকফ মার্কেট, দোকান ও পুকুর ইজারার আয়: মাদ্রাসার নিজস্ব স্থায়ী ওয়াকফকৃত সম্পত্তি থেকে প্রতি মাসে প্রাপ্ত নিশ্চিত ভাড়া ও মুনাফা।
- •৫. আন্তর্জাতিক প্রবাসী রেমিট্যান্স অনুদান: মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও আমেরিকায় বসবাসরত ধর্মপ্রাণ ভাইদের পাঠানো বিশেষ প্রকল্প অনুদান।
২. সনাতন খাতা বাজেট বনাম ডিজিটাল জামিয়া সফটওয়্যার বাজেট সিস্টেম
সনাতন খাতার অনুমান বনাম আধুনিক ডিজিটাল বাজেটিংয়ের তুলনামূলক চিত্র:
| বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্র | সনাতন খাতা ভিত্তিক অনুমান | JamiaSoft ডিজিটাল বাজেট অটোমেশন |
|---|---|---|
| বাজেট প্রণয়নের নির্ভুলতা | আন্দাজ ও অনুমানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি | বিগত ৫ বছরের বাস্তব ডাটা অ্যানালাইসিস করে প্রাক্কলন |
| অতিরিক্ত খরচ (Over-budget) নিয়ন্ত্রণ | বছর শেষে গিয়ে অতিরিক্ত খরচের ঘাটতি ধরা পড়ে | বাজেটের ৮০% খরচ হলেই সফটওয়্যারে লাল অ্যালার্ট |
| ফান্ডভিত্তিক আলাদা বরাদ্দ | যাকাত ও সাধারণ ফান্ড একত্রে মিলে যাওয়ার ঝুঁকি | প্রতিটি ফান্ডের জন্য পৃথক অপরিবর্তনীয় ডিজিটাল সিলিং |
| শূরার নিকট বাজেট উপস্থাপন | হস্তলিখিত জটিল খতিয়ান যা বোঝা কঠিন | চাররঙা পাই চার্ট ও পিডিএফ প্রজেক্টেড ড্যাশবোর্ড |
| মাসিক ভেরিয়েন্স অ্যানালাইসিস | প্রতি মাসে ব্যয়ের তারতম্য হিসাব করা যায় না | ১-ক্লিকে Actual vs Budgeted খরচের তুলনামূলক গ্রাফ |
৩. একটি ২০০ ছাত্রের আদর্শ আবাসিক মাদ্রাসার বার্ষিক বাজেট মডেল
বাৎসরিক প্রায় ৫০ লাখ টাকার একটি আদর্শ মাদ্রাসার আয়-ব্যয় বিভাজন কাঠামো:
| ব্যয়ের প্রধান প্রধান খাত | বাৎসরিক প্রস্তাবিত বরাদ্দ | শতকরা হার | ব্যয়ের লক্ষ্য ও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ |
|---|---|---|---|
| শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা | ৳২২,৫০,০০০ | ৪৫% | শিক্ষকদের সম্মানজনক সম্মানী ও দুটি ঈদ বোনাস |
| আবাসিক মেসের খাদ্য ভর্তুকি | ৳১৫,০০,০০০ | ৩০% | ছাত্রদের সুষম পুষ্টিকর তিন বেলার আহার ও দুধ |
| বিদ্যুৎ, গ্যাস, ওয়াইফাই ও পানি | ৳৩,৫০,০০০ | ৭% | ইউটিলিটি বিল ও জেনারেটর জ্বালানি ব্যয় |
| কুতুবখানা, পরীক্ষা ও স্টেশনারি | ৳২,৫০,০০০ | ৫% | পরীক্ষার খাতা, প্রশ্নপত্র মুদ্রণ ও লাইব্রেরির কিতাব |
| এতিম ছাত্রদের চিকিৎসা ও জরুরি সেবা | ৳১,৫০,০০০ | ৩% | অসুস্থ ছাত্রদের জন্য সার্বক্ষণিক ফার্স্ট এইড ও ওষুধ |
| ভবন মেরামত ও চুনকাম সংস্কার | ৳২,৫০,০০০ | ৫% | ফ্যান, লাইট, বাথরুম ও ছাদের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ |
| আপ্যায়ন ও বাৎসরিক মাহফিল | ৳১,৫০,০০০ | ৩% | মেহমানদারি ও বার্ষিক দস্তারবন্দী সম্মেলনের ব্যয় |
| আপদকালীন জরুরি রিজার্ভ ফান্ড | ৳১,০০,০০০ | ২% | অপ্রত্যাশিত দুর্যোগ বা আকস্মিক ঘাটতির জন্য সঞ্চয় |
| সর্বমোট বার্ষিক বাজেট | ৳৫০,০০,০০০ | ১০০% | মজলিসে শূরা কর্তৃক সর্বসম্মতভাবে অনুমোদিত |
৪. বাজেট ঘাটতি (Deficit) পূরণের ৫টি কৌশলগত পদক্ষেপ
যদি বছরের মাঝামাঝি সময়ে অনুদান হ্রাস পায় বা ব্যয় বৃদ্ধি পায় তবে করণীয়:
- •১. ব্যয় সংকোচন ও অপচয় বন্ধ: মেসের বাজারে পাইকারি আড়ত থেকে সরাসরি ক্রয় এবং অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা।
- •২. বিশেষ এতিম স্পনসরশিপ ড্রাইভ: দেশ-বিদেশের বিত্তবান ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ করে ৫০ জন এতিম ছাত্রের বার্ষিক খাদ্য স্পনসর নিশ্চিত করা।
- •৩. মাসিক ডোনার ক্লাবের সদস্য বৃদ্ধি: ৫০০ জন শুভাকাঙ্ক্ষীকে নিয়ে মাসিক ৫০০ বা ১,০০০ টাকার নিয়মিত অনুদান ফোরাম সক্রিয় করা।
- •৪. বকেয়া বেতন আদায়ে নিবিড় যোগাযোগ: যেসব অভিভাবকের বেতন বকেয়া রয়েছে তাদের সাথে সম্মানজনকভাবে কথা বলে কিস্তিতে আদায় করা।
- •৫. শূরার বিশেষ জরুরি অধিবেশন: পরিচালনা কমিটির সদস্যদের নিয়ে বসে সাময়িক ঘাটতি মেটাতে এককালীন বিশেষ অনুদান সংগ্রহ।
৫. মজলিসে শূরার নিকট বাজেট অনুমোদনের প্রাতিষ্ঠানিক প্রটোকল
কমিটির বৈঠকে মুহতামিম ও হিসাবরক্ষকের উপস্থাপনা নির্দেশিকা:
- •১. গত বছরের অডিট ও চলতি বছরের খসড়া পাশাপাশি পেশ: বিগত বছরের প্রকৃত খরচ এবং নতুন সেশনের প্রস্তাবিত বরাদ্দের তুলনামূলক তালিকা উপস্থাপন।
- •২. মূল্যস্ফীতি ও ছাত্রবৃদ্ধির যৌক্তিক ব্যাখ্যা: নতুন শিক্ষাবর্ষে কেন বাজেট বৃদ্ধি পেল তার কারণসমূহ (যেমন: শিক্ষকের ইনক্রিমেন্ট, চালের দাম বৃদ্ধি) তুলে ধরা।
- •৩. শূরার সকল সদস্যের আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর: সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের পর রেজুলেশন বইতে কার্যবিবরণী লিখে সভাপতি ও সেক্রেটারির দস্তখত গ্রহণ।
- •৪. ত্রৈমাসিক বাজেট রিভিউ সভা: প্রতি ৩ মাস পর পর পরিচালনা কমিটি বসে বাজেটের অগ্রগতি ও ব্যয়ের গতি পর্যবেক্ষণ করা।
৬. জেলা ও বিভাগ ভিত্তিক মাদ্রাসায় আধুনিক বাজেটিংয়ের বাস্তব কেস স্টাডি
বাংলাদেশের শীর্ষ দ্বীনি প্রতিষ্ঠানগুলোর বাস্তব ফলাফল:
- •ঢাকার একটি ৩০০ ছাত্রের কওমি জামিয়া: জামিয়া সফটওয়্যারে ডিজিটাল বাজেটিং চালু করার পর অপ্রয়োজনীয় খরচ ২০% কমে যায় এবং বছর শেষে ৩ লাখ টাকার বেশি উদ্বৃত্ত রিজার্ভ ফান্ডে জমা হয়।
- •চট্টগ্রামের একটি শীর্ষস্থানীয় হিফজ একাডেমি: খাবারের বাজেটে ক্যাপ নির্ধারণ করে বাল্ক ক্রয় করায় মিল রেট ৪০ টাকা থেকে ৩৫ টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব হয়।
- •সিলেটের একটি গ্রামীণ মহিলা মাদ্রাসা: প্রবাসীদের সহায়তায় একটি স্থায়ী ওয়াকফ মার্কেট নির্মাণ করে সেই ভাড়ার আয়ে মাদ্রাসার বার্ষিক বাজেটের ৪০% স্থায়ী রূপ দেওয়া হয়।
৭. বাজেট বাস্তবায়নে হিসাবরক্ষকের জন্য ৫-দফা চেকলিস্ট
সফল আর্থিক বছর পরিচালনায় হিসাবরক্ষকের সার্বক্ষণিক করণীয়:
- •১. অনুমোদিত খাতের বাইরে খরচ না করা: বাজেটে উল্লেখ নেই এমন কোনো নতুন খাতে মুহতামিমের লিখিত অনুমতি ছাড়া এক টাকাও খরচ না করা।
- •২. দৈনিক খরচের ক্যাশবুক হালনাগাদ: প্রতিদিনের লেনদেন দিনেই সফটওয়্যারে এন্ট্রি দিয়ে ক্যাশ ড্রয়ার মিলানো।
- •৩. ব্যাংকিং চ্যানেলে ৯০% লেনদেন: বড় যেকোনো পেমেন্ট নগদ টাকার পরিবর্তে চেকে বা অনলাইন ট্রান্সফারে প্রদান।
- •৪. মাসিক বাজেট ভেরিয়েন্স রিপোর্ট প্রস্তুত: প্রতি মাসের ১ তারিখে বিগত মাসের খরচের সারাংশ মুহতামিমের টেবিলে উপস্থাপন।
- •৫. ডিজিটাল ক্লাউড ব্যাকআপ নিশ্চিতকরণ: হিসাবের সমস্ত ডাটাবেজ প্রতিদিন অটোমেটিক ক্লাউডে সুরক্ষিত রাখা।
৮. বাজেট বাস্তবায়নে শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ও আপদকালীন নিরাপত্তা
প্রতিষ্ঠানের স্থিতিশীলতা রক্ষায় মানবিক অর্থনৈতিক ফ্রেমওয়ার্ক:
- •১. শিক্ষক প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচুইটি বরাদ্দ: শিক্ষকদের মাসিক বেতন থেকে ৫% কর্তন এবং মাদ্রাসার পক্ষ থেকে সমপরিমাণ ৫% অনুদান দিয়ে যৌথ পেনশন ফান্ড গঠন।
- •২. আকস্মিক মেডিকেল ইমার্জেন্সি ফান্ড: কোনো শিক্ষক বা কর্মচারী গুরুতর অসুস্থ হলে তাৎক্ষণিক অপারেশনের জন্য বিশেষ ট্রাস্ট বরাদ্দ রাখা।
- •৩. মুদ্রাস্ফীতি সহায়ক বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট: জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি বছর পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে নির্দিষ্ট হারে ইনক্রিমেন্ট কার্যকর করা।
- •৪. কর্মচারীদের সন্তানদের ফ্রি লেখাপড়া: স্টাফ ও বাবুর্চিদের সন্তানদের মাদ্রাসার সকল বিভাগে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে শিক্ষা ও মেস সুবিধা প্রদান।
৯. মাদ্রাসার বাৎসরিক আর্থিক বাজেট সফল করার ১০-দফা চেকলিস্ট
মুহতামিম ও নাজেমে মালিয়াতের জন্য আজীবন অনুসরণীয় দিকনির্দেশনা:
- •১. পূর্ববর্তী বছরের ব্যালান্স শিট পর্যালোচনা: বিগত শিক্ষাবর্ষের সকল অডিট আপত্তি ও ঘাটতির কারণ খতিয়ে দেখা।
- •২. আয়ের উৎস বহুমুখীকরণ: কেবল ছাত্র বেতনের ওপর নির্ভর না করে ওয়াকফ প্রোপার্টি ও মাসিক ডোনার ক্লাব তৈরি করা।
- •৩. অপচয় প্রতিরোধে শূন্য সহনশীলতা: মেসের খাবার ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সর্বোচ্চ সাশ্রয় নিশ্চিত করা।
- •৪. শূরার সকল সদস্যের লিখিত অনুমোদন: বাজেটের অনুলিপিতে পরিচালনা কমিটির দায়িত্বশীলদের স্বাক্ষর সংরক্ষণ।
- •৫. ক্লাউড সিস্টেমে লাইভ বাজেট ট্র্যাকিং: JamiaSoft ড্যাশবোর্ডে প্রতিদিনের ব্যয়ের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা।
১১. কওমি মাদ্রাসার স্থায়ী আর্থিক স্বনির্ভরতা অর্জনে ৫টি সোনালী পদক্ষেপ
ভবিষ্যতের পরনির্ভরশীলতা দূর করার কৌশলগত নির্দেশনা:
- •১. স্থায়ী ওয়াকফ প্রোপার্টি তৈরি: মাদ্রাসার আশপাশে দোকান বা মার্কেট নির্মাণ করে স্থায়ী আয়ের উৎস তৈরি করা।
- •২. কৃষি ও মৎস্য চাষ প্রকল্প: নিজস্ব জমিতে শাকসবজি ও পুকুরে মাছ চাষ করে মেসের খরচ অর্ধেকে নামিয়ে আনা।
- •৩. আজীবন দাতা ট্রাস্ট গঠন: ১০০ জন শুভাকাঙ্ক্ষীকে নিয়ে মাসিক স্থায়ী কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করা।
- •৪. ছাত্রসংখ্যা অনুযায়ী সুষম শিক্ষক নিয়োগ: অতিরিক্ত শিক্ষক না রেখে মেধা ও ক্লাসের অনুপাতে শিক্ষক নিয়োগ।
- •৫. প্রতি শিক্ষাবর্ষের শেষে উদ্বৃত্ত তহবিল ব্যাংকে জমা: বেঁচে যাওয়া অর্থ ভবিষ্যৎ উন্নয়ন তহবিলে স্থানান্তর।
সাধারণ জিজ্ঞাসা ও প্রশ্নোত্তর (FAQs)
- •প্রশ্ন ১: কওমি মাদ্রাসার বাজেট কি প্রতি বছর পরিবর্তন করা বাধ্যতামূলক? উত্তর: হ্যাঁ, শিক্ষার্থীদের সংখ্যা হ্রাস-বৃদ্ধি, বাজারের দ্রব্যমূল্যের পরিবর্তন এবং শিক্ষকদের ইনক্রিমেন্ট বিবেচনায় প্রতি বছর নতুন বাজেট প্রণয়ন জরুরি।
- •প্রশ্ন ২: কোনো খাতে বাজেট শেষ হয়ে গেলে অন্য খাত থেকে টাকা ধার নেওয়া যায় কি? উত্তর: সাধারণ তহবিলের এক খাত থেকে অন্য খাতে নেওয়া গেলেও যাকাত বা লিল্লাহ ফান্ডের টাকা কোনো অবস্থাতেই অন্য সাধারণ খাতে স্থানান্তর করা যাবে না।
- •প্রশ্ন ৩: সফটওয়্যার কি বাজেটের অতিরিক্ত খরচ হলে সতর্কতা দেখায়? উত্তর: হ্যাঁ, JamiaSoft-এ কোনো খাতের বাজেট ৯০% পার হলেই ড্যাশবোর্ডে হলুদ ও ১০০% পার হলে লাল সতর্কবার্তা প্রদর্শিত হয়।
- •প্রশ্ন ৪: বার্ষিক বাজেটে কত শতাংশ আপদকালীন রিজার্ভ রাখা উচিত? উত্তর: মোট বাজেটের অন্তত ২% থেকে ৫% অর্থ আপদকালীন যেকোনো অপ্রত্যাশিত দুর্যোগের জন্য স্থায়ী আমানত রাখা আদর্শ।
- •প্রশ্ন ৫: মাদ্রাসার সাধারণ মুসল্লিদের কি বাজেট জানানো উচিত? উত্তর: হ্যাঁ, বার্ষিক মাহফিলে সংক্ষিপ্ত আকারে আয়-ব্যয়ের বাজেট বিবরণী প্রকাশ করলে সাধারণ মানুষের মাঝে মাদ্রাসার প্রতি অগাধ বিশ্বাস তৈরি হয়।
- •প্রশ্ন ৬: সফটওয়্যার থেকে কি এক ক্লিকে পূর্ণাঙ্গ বাজেট শিট প্রিন্ট করা যায়? উত্তর: হ্যাঁ, এ৪ সাইজের চাররঙা প্রফেশনাল বাজেট শিট ও গ্রাফিকাল রিপোর্ট জামিয়া সফটওয়্যার থেকে ১ ক্লিকে প্রিন্ট করা যায়।
মাওলানা তানভীর আহমেদ
শরয়ী অডিট ও ফিন্যান্স কনসালট্যান্ট
বাংলাদেশের প্রখ্যাত শরয়ী ফিন্যান্স বিশেষজ্ঞ। কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসার যাকাত, লিল্লাহ ও সাধারণ ফান্ডের পৃথক ব্যবস্থাপনা ও অডিটে এক দশকের অভিজ্ঞতা রেখেছেন। JamiaSoft-এর শরয়ী কমপ্লায়েন্স আর্কিটেকচারের প্রধান পরামর্শদাতা।
আরও বিষয়ভিত্তিক গাইড:
আর্টিকেলটি ভালো লাগলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন
দ্বীনি প্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসার আর্থিক আমানতদারিতা ও আধুনিকায়নে তথ্যগুলো ছড়িয়ে দিন।
সম্পর্কিত প্রবন্ধ

মাদ্রাসায় ক্যাশলেস ক্যাম্পাস: নগদ টাকা ছাড়াই বেতন, মেস ফি ও অনুদান আদায়ের রোডম্যাপ
কওমি ও আবাসিক মাদ্রাসায় নগদ টাকা ছাড়াই ছাত্রের বেতন, মেস ফি, অনুদান ও শিক্ষক বেতন পরিচালনার ক্যাশলেস ক্যাম্পাস বাস্তবায়ন রোডম্যাপ।

মাদ্রাসার মাসিক ফি বিল ও রসিদ অটোমেশন: ১ ক্লিকে শত ছাত্রের বিল তৈরি ও ডিজিটাল ভাউচার গাইড
মাদ্রাসার শত শত ছাত্রের মাসিক বেতন বিল, রসিদ ও ভাউচার ম্যানুয়ালি কাটার ঝামেলা শেষ—১ ক্লিকে অটো বিল ও ডিজিটাল রসিদ তৈরির পূর্ণ গাইড।

মাদ্রাসায় স্বয়ংক্রিয় বেতন ও ফি আদায়: বিকাশ-নগদ পেমেন্ট থেকে অটো SMS রিমাইন্ডার পর্যন্ত সম্পূর্ণ গাইড
মাদ্রাসার বেতন ও ফি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আদায়, বিকাশ-নগদ পেমেন্ট গেটওয়ে, অটো SMS রিমাইন্ডার ও শরয়ী ফান্ড বিভাজনসহ A-Z গাইড।
আপনার মাদ্রাসায় JamiaSoft ব্যবহার করতে চান?
হিফজ ট্র্যাকিং, শরয়ী ফিন্যান্স ও অনলাইন ভর্তির আধুনিক অভিজ্ঞতা পেতে আজই ফ্রি ডেমো বুক করুন।