
কওমি মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার: ৫টি অপরিহার্য ফিচার ও হিসাব পদ্ধতি
কওমি মাদ্রাসার জন্য সফটওয়্যার নির্বাচনের পূর্বে যে ৫টি অপরিহার্য ফিচার যাচাই করা আবশ্যক: হিফজ ট্র্যাকিং, শরয়ী ফান্ড, মেস হিসাব ও অভিভাবক নোটিফিকেশন গাইড।
কওমি মাদ্রাসার জন্য সফটওয়্যার নির্বাচনের পূর্বে যে ৫টি অপরিহার্য ফিচার যাচাই করা আবশ্যক: হিফজ ট্র্যাকিং, শরয়ী ফান্ড, মেস হিসাব ও অভিভাবক নোটিফিকেশন গাইড।
কওমি মাদ্রাসাগুলো সাধারণ স্কুলের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ধর্মীয়, শিক্ষাগত ও সামাজিক নীতিমালায় পরিচালিত হয়। একটি সাধারণ স্কুলের সফটওয়্যার দিয়ে কখনো কওমি মাদ্রাসার হিসাব, হিফজুল কুরআন কিংবা লিল্লাহ বোর্ডিং পরিচালনা করা সম্ভব নয়। বাজারে বহু সফটওয়্যার কোম্পানি স্কুলের সফটওয়্যারের নাম পরিবর্তন করে মাদ্রাসায় বিক্রি করার চেষ্টা করে, যা পরবর্তীতে মুহতামিম ও শিক্ষকদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়।
কওমি মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার (Qawmi Madrasa Management Software Features) বলতে বোঝায় এমন একটি বিশেষায়িত ক্লাউড ইকোসিস্টেম, যা কওমি মাদ্রাসার শত বছরের ঐতিহ্যবাহী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, শরয়ী ফিন্যান্সিয়াল অডিট, দরসে নিজামি পাঠ্যক্রম, হিফজখানার ত্রি-স্তরীয় তালীম (সবক, সবকী ও মনজিল), লিল্লাহ বোর্ডিং ও মেসের দৈনিক মিল রেট এবং প্রবাসী অভিভাবকদের রিয়েল-টাইম যোগাযোগের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলোকে শতভাগ নির্ভুলভাবে স্বয়ংক্রিয় পরিচালনা করতে পারে। একটি আদর্শ কওমি মাদ্রাসা সফটওয়্যারে যাকাত ফান্ডের অর্থ সাধারণ ফান্ডের সাথে সংমিশ্রণ হওয়া রোধে প্রযুক্তিগত লক থাকতে হয়, অফলাইনে কাজ করার সুবিধা থাকতে হয় এবং পুরো ইন্টারফেস সম্মানজনক মার্জিত বাংলা ভাষায় তৈরি হতে হয়।
১. কেন সাধারণ স্কুল সফটওয়্যার কওমি মাদ্রাসায় ব্যর্থ হয়?
সাধারণ স্কুল সফটওয়্যার কওমি মাদ্রাসায় অচল হওয়ার প্রধান ৪টি কারণ:
- •১. হিফজ ট্র্যাকিংয়ের কোনো ফিচার না থাকা: সাধারণ স্কুল সফটওয়্যারে সবক, সবকী ও মনজিলের কোনো ফিল্ড থাকে না; ফলে হিফজখানার উস্তাদদের আবার সেই কাগজের খাতাতেই ফিরে যেতে হয়।
- •২. শরয়ী ফান্ড পৃথকীকরণের অভাব: সাধারণ সফটওয়্যারে সব টাকা একটি একক অ্যাকাউন্টে জমা হয়। ফলে যাকাত, ফিতরা ও সাধারণ অনুদানের টাকা একাকার হয়ে ধর্মীয় খেয়ানতের ঝুঁকি তৈরি হয়।
- •৩. বোর্ডিং ও মিল রেট গণনার অনুপস্থিতি: আবাসিক মাদ্রাসার কাঁচা বাজার, বাবুর্চির রেশন ও দৈনিক মিল রেট হিসাব করার কোনো ব্যবস্থা স্কুলের সফটওয়্যারে থাকে না।
- •৪. কওমি জামাত ও ইসলামিক গ্রেডিং না থাকা: ইবতেদায়ী, মুতাওয়াসসিতা, সানাবিয়া, ফজিলাত ও দাওরায়ে হাদিসের শ্রেণি কাঠামো এবং মুমতাজ/জাইয়্যিদ গ্রেডিং সাধারণ সফটওয়্যারে সাপোর্ট করে না।
২. কওমি মাদ্রাসা সফটওয়্যার নির্বাচনের ৫টি অপরিহার্য ও বাধ্যতামূলক ফিচার
একটি সফটওয়্যার কেনার পূর্বে মুহতামিম ও পরিচালনা কমিটির যে ৫টি ফিচার পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই করা উচিত:
ফিচার ১: হিফজুল কুরআন মাইক্রো-ট্র্যাকিং ও প্রেডিকশন
- •প্রতিদিনের সবক (নতুন পারা-পৃষ্ঠা), সবকী ও মনজিল ১-ট্যাপে ক্লাসেই এন্ট্রি দেওয়ার সুবিধা।
- •তাজবীদ ও মাখরাজ মূল্যায়নে ১০০ নম্বরের ডিজিটাল গ্রেডিং স্কেল।
- •বিগত ৩০ দিনের গড় গতি বিশ্লেষণ করে ছাত্রের 'হাফেজ হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ' স্বয়ংক্রিয় গণনা।
- •দুর্বল পারার কালার-কোডেড ভিজ্যুয়াল অ্যালার্ট।
ফিচার ২: ১০০% শরয়ী ফান্ড সেগ্রিগেশন ও ডুয়াল লেজার
- •যাকাত ও ওয়াজিব সদকা ফান্ডের জন্য সম্পূর্ণ আলাদা ডিজিটাল ওয়ালেট ও ব্যাংক ট্র্যাকিং।
- •সাধারণ অনুদান ও ছাত্রদের বেতন তহবিল পৃথক রাখা।
- •মুহতামিম সাহেবের অনুমোদন ছাড়া কোনো ফান্ড থেকে অর্থ স্থানান্তরের সুযোগ না থাকা।
- •১-ক্লিকে মজলিসে শূরার জন্য চাররঙা অডিট ব্যালেন্স শিট প্রস্তুত।
ফিচার ৩: বোর্ডিং, কিচেন রেশন ও মিল রেট অটোমেশন
- •প্রতিদিনের চাল, ডাল, তেল ও তরকারির বাজার এন্ট্রি দিয়ে স্বয়ংক্রিয় মিল রেট প্রস্তুত।
- •ছুটি শুরুর আগে অভিভাবক বা শিক্ষকের পক্ষ থেকে ১-ক্লিকে 'মিল অফ' এন্ট্রি।
- •লিল্লাহ ছাত্রদের খাবার ব্যয় যাকাত ফান্ড থেকে স্বয়ংক্রিয় স্থানান্তর ভাউচার প্রস্তুত।
ফিচার ৪: কওমি ইসলামিক গ্রেডিং ও সেন্ট্রাল ট্যাবুলেশন শিট
- •মুমতাজ, জাইয়্যিদ জিদ্দান, জাইয়্যিদ, মাকবুল ও রাসিব গ্রেডিং স্কেল সাপোর্ট।
- •শত শত ছাত্রের খাতার নম্বর ১-ক্লিকে যোগ হয়ে অটোমেটিক মেধা তালিকা জেনারেশন।
- •মাদ্রাসার নিজস্ব লোগো ও সিলমোহরযুক্ত চাররঙা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র প্রিন্ট।
ফিচার ৫: আন্তর্জাতিক এসএমএস ও হোয়াটসঅ্যাপ অভিভাবক পোর্টাল
- •ছাত্র অনুপস্থিত থাকলে সকাল ৯টার মধ্যে বাবার মোবাইলে স্বয়ংক্রিয় বাংলা এসএমএস।
- •মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা দেশে থাকা প্রবাসী অভিভাবকদের হোয়াটসঅ্যাপে সাপ্তাহিক হিফজ ও উপস্থিতি রিপোর্ট।
- •বিকাশ, নগদ বা আন্তর্জাতিক কার্ড দিয়ে ঘরে বসেই টিউশন ফি পরিশোধের গেটওয়ে।
৩. বাস্তব গাণিতিক কেস স্টাডি: ২৫০ ছাত্রের কওমি মাদ্রাসার ১ বছরের সফটওয়্যার ব্যবহারের ফলাফল
ধরা যাক, জামিয়া সিরাজিয়া কওমি মাদ্রাসায় ২৫০ জন আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছে। JamiaSoft ক্লাউড সফটওয়্যার ব্যবহারের ১ বছরের বাস্তব অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক চিত্র:
১ বছরের অর্থনৈতিক ও কর্মঘণ্টা সাশ্রয়:
- •ভর্তি মৌসুমের ফরম ও রসিদ প্রিন্টিং খরচ সাশ্রয়: ৩৫,০০০ টাকা।
- •কিচেন রেশন কন্ট্রোল ও মিল রেট অপচয় রোধে বার্ষিক সাশ্রয়: ১,৪০,০০০ টাকা।
- •বকেয়া বেতন আদায় বৃদ্ধি: প্রতি মাসে গড়ে ৪৫,০০০ টাকা অতিরিক্ত উসুল (বছরে ৫,৪০,০০০ টাকা নগদ তারল্য বৃদ্ধি)।
- •শিক্ষকদের কেরানির কাজের সময় সাশ্রয়: বছরে প্রায় ১,২০০ কর্মঘণ্টা যা তালিম ও তরবিয়তে ব্যয় করা সম্ভব হয়েছে।
- •বার্ষিক অডিট প্রস্তুতি সময়: পূর্বে লাগত ৩০ দিন ➔ এখন লাগে মাত্র ৫ মিনিট!
ক্যাশ ভাউচার লেখার নিয়ম জানতে পড়ুন আমাদের মাদ্রাসার ক্যাশ ভাউচার ও রোজনামচা লেখার ৫টি নিয়ম।
৪. সফটওয়্যার বাস্তবায়নে সচরাচর হওয়া ভুল ও সমাধান
- •ভুল ১: কেবল কম দাম দেখে অনুপযুক্ত স্কুল সফটওয়্যার কেনা: পরবর্তীতে মাদ্রাসার কাজ না হওয়ায় টাকা নষ্ট হওয়া।
- •ভুল ২: ব্যাকআপ সুবিধার নিরাপত্তা যাচাই না করা: সার্ভার ডাউন হলে সব ডাটা হারানোর ঝুঁকি।
- •ভুল ৩: আলেম ও শিক্ষকদের উপযুক্ত ট্রেনিং না দেওয়া: ব্যবহার না বুঝে সিস্টেম ফেলে রাখা।
- •ভুল ৪: অফলাইন সুবিধা না থাকা: প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট চলে গেলে কাজ বন্ধ হওয়া।
৫. তথ্যপ্রযুক্তি ও আলেম সমাজের মেলবন্ধন: আধুনিক মাদ্রাসার রূপরেখা
মাদ্রাসায় তথ্যপ্রযুক্তি গ্রহণ কোনো দ্বীনী পরিবর্তনের বিষয় নয়; বরং এটি আমানত রক্ষার অন্যতম আধুনিক পদ্ধতি:
- •১) হিসাবের শতভাগ স্বচ্ছতা তৈরি করে জনবিশ্বাস বৃদ্ধি।
- •২) শিক্ষকদের কেরানির কাজ থেকে মুক্তি দিয়ে খাঁটি দ্বীনি তালিমে মনোযোগ স্থাপন।
- •৩) প্রবাসী অভিভাবকদের সাথে আত্মিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বন্ধন সুদৃঢ়করণ।
৬. JamiaSoft: বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসার জন্য এক নম্বর বিশ্বস্ত ক্লাউড সফটওয়্যার
JamiaSoft কোনো সাধারণ সফটওয়্যার নয়; এটি বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় উলামায়ে কেরাম ও টেকনোলজি বিশেষজ্ঞদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে নির্মিত:
- •শতভাগ বাংলা ও অত্যন্ত সহজ ইন্টারফেস: স্মার্টফোন চালাতে পারেন এমন যেকোনো শিক্ষক এটি অনায়াসে ব্যবহার করতে পারেন।
- •লো-ইন্টারনেট অপ্টিমাইজেশন: দুর্বল নেটওয়ার্কেও অফলাইনে কাজ করে এবং নেট এলে স্বয়ংক্রিয় সিঙ্ক হয়।
- •আজীবন ক্লাউড ব্যাকআপ: ডেটা কখনো হারাবে না এবং কোনো ভাইরাসের ভয় নেই।
মাদ্রাসার সার্বিক ব্যবস্থাপনা দেখতে ভিজিট করুন আমাদের মাদ্রাসা ফিন্যান্স হাব এবং সাশ্রয়ী প্ল্যান জানতে দেখুন মাদ্রাসার প্যাকেজ ও মূল্য তালিকা। বিনামূল্যে আজই নিন ১৫ দিনের ফ্রি ডেমো বুকিং।
৭. কওমি মাদ্রাসা সফটওয়্যার সংক্রান্ত সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)
- •প্রশ্ন ১: জামিয়াসফট ব্যবহার করতে কি মাদ্রাসায় কোনো দামি কম্পিউটার বা সার্ভার বসাতে হবে? উত্তর: না, সাধারণ স্মার্টফোন, ল্যাপটপ বা সাধারণ কম্পিউটার দিয়েই ব্রাউজারের মাধ্যমে সম্পূর্ণ সফটওয়্যার চালানো যায়।
- •প্রশ্ন ২: আমাদের বর্তমান খাতার পুরোনো ডাটা কি সফটওয়্যারে তুলে দেওয়া হবে? উত্তর: হ্যাঁ, JamiaSoft-এর সাপোর্ট টিম আপনার মাদ্রাসার বর্তমান সকল ছাত্র ও হিসাবের ডাটা সফটওয়্যারে এন্ট্রি করতে সম্পূর্ণ সহায়তা প্রদান করে।
- •প্রশ্ন ৩: মাদ্রাসার গোপন হিসাব কি অন্য কেউ দেখতে পাবে? উত্তর: না, ব্যাংকিং মানের সিকিউর এনক্রিপশনের কারণে আপনার মাদ্রাসার তথ্য কেবল আপনার নির্ধারিত পাসওয়ার্ড ও ওটিপি দিয়েই দেখা সম্ভব।
- •প্রশ্ন ৪: সফটওয়্যারের টেকনিক্যাল সমস্যা হলে কত দ্রুত সাপোর্ট পাওয়া যায়? উত্তর: আমাদের ডেডিকেটেড বাংলা সাপোর্ট টিম সপ্তাহে ৭ দিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ফোন ও দূরবর্তী সংযোগের মাধ্যমে সেবা দেয়।
- •প্রশ্ন ৫: সফটওয়্যারের কোনো ফ্রি ডেমো দেখার সুযোগ আছে কি? উত্তর: হ্যাঁ, আপনি বিনামূল্যে ১৫ দিনের সম্পূর্ণ ফ্রি ডেমো টেস্ট করতে পারেন।
সারসংক্ষেপ ও পরামর্শ
কওমি মাদ্রাসার ঐতিহ্য, আস্থার মর্যাদা এবং শরয়ী আমানত শতভাগ হেফাজতের জন্য একটি বিশেষায়িত মাদ্রাসা সফটওয়্যার গ্রহণ করাই সময়ের শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিমত্তার পরিচয়। সঠিক সফটওয়্যার নির্বাচন আপনার প্রতিষ্ঠানকে শত শত কর্মঘণ্টা বাঁচিয়ে এক অনন্য আধুনিক রূপ উপহার দেবে।
প্রতিষ্ঠান প্রধান ও আসাতেজায়ে কেরামের জন্য বিশেষ কারিগরি সুপারিশমালা
মাদ্রাসার প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও প্রাতিষ্ঠানিক মানোন্নয়নে আসাতেজায়ে কেরাম ও পরিচালনা কমিটির জন্য কিছু বিশেষ সুপারিশ:
- •১. নিয়মিত সাপ্তাহিক পর্যালোচনা সভা: প্রতি বৃহস্পতিবার বাদ আসর শিক্ষক পরিষদের সাপ্তাহিক সভায় প্রতিটি বিভাগের অগ্রগতি ও হিসাবের পর্যালোচনা সম্পন্ন করা।
- •২. তথ্য সুরক্ষায় নিয়মিত ব্যাকআপ গ্রহণ: ক্লাউড সফটওয়্যারের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব এক্সটার্নাল ড্রাইভে প্রতি মাসে সকল ডাটার অফলাইন কপি সংরক্ষণ করা।
- •৩. অভিভাবকদের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রক্ষা: কোনো ছাত্রের শিক্ষাগত বা আর্থিক দুর্বলতা থাকলে সরাসরি তিরস্কার না করে অভিভাবকের সাথে একান্তে বসে সমাধান খোঁজা।
- •৪. আর্থিক লেনদেনে শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখা: ক্যাশিয়ারের প্রতিটি রসিদ ও ভাউচার নিয়মিত নিরীক্ষা করে মুহতামিম সাহেবের প্রতিস্বাক্ষর নিশ্চিত করা।
- •৫. ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারে শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি: তরুণ আলেম ও শিক্ষকদের আধুনিক সফটওয়্যার ও কম্পিউটার পরিচালনায় নিয়মিত উৎসাহিত করা।
দীর্ঘমেয়াদী প্রাতিষ্ঠানিক টেকসই উন্নয়ন ও বরকত
একটি দ্বীনি প্রতিষ্ঠান কেবল তার বাহ্যিক ভবন বা কাঠামোর কারণে মহান হয় না; বরং প্রতিষ্ঠানের ভেতরকার আমানতদারিতা, সুশৃঙ্খল পরিবেশ, উস্তাদদের আন্তরিক মেহনত এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি ভালোবাসা প্রতিষ্ঠানকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। যখন একটি মাদ্রাসায় প্রতিটি টাকার হিসাব স্বচ্ছ থাকে, প্রতিটি ছাত্রের মেধা ও হিফজের গতি যত্নসহকারে পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং অভিভাবকরা ঘরে বসেই প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি পদক্ষেপের সত্যতা দেখতে পান—তখন প্রতিষ্ঠানের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা যেমন আকাশচুম্বী হয়, তেমনি মহান আল্লাহর বিশেষ রহমত ও বরকত বর্ষিত হয়। সনাতন খাতা-কলমের বিশৃঙ্খলা থেকে মুক্ত হয়ে আধুনিক ডিজিটাল ব্যবস্থার সুফল গ্রহণ করাই আজকের আধুনিক মাদ্রাসার টেকসই উন্নয়নের শ্রেষ্ঠ পথ।
প্রাতিষ্ঠানিক আমানত ও আধুনিক শৃঙ্খলার ৫টি চিরস্থায়ী মূলনীতি
প্রতিষ্ঠানের সুনাম, বরকত ও দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব বজায় রাখতে উস্তাদ ও পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব:
- •১. শতভাগ শরয়ী স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: হিসাব-নিকাশ ও তালীমাতের প্রতিটি পদক্ষেপে আল্লাহর ভয় ও মুহতামিমের তত্ত্বাবধান বজায় রাখা।
- •২. শিক্ষার্থীদের পিতা-মাতাতুল্য স্নেহ প্রদান: কোনো কঠোরতা বা অসৌজন্যমূলক আচরণ না করে ভালোবাসার সাথে শিক্ষাদান।
- •৩. তথ্যের নিরাপদ ও স্থায়ী ডিজিটাল ব্যাকআপ: খাতা হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে JamiaSoft ক্লাউড সার্ভারে সমস্ত ডাটা সংরক্ষণ।
- •৪. অভিভাবকদের সাথে নিয়মিত নিবিড় যোগাযোগ: শিক্ষার্থীর সবক অগ্রগতি ও মেসের সন্তুষ্টি নিয়ে প্রতি মাসে অন্তত একবার মতবিনিময়।
- •৫. পরিচালনা কমিটির ত্রৈমাসিক রিভিউ অধিবেশন: প্রতিষ্ঠানের আর্থিক বাজেট ও পরীক্ষা ফলাফলের সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনা।
দ্বীনি আমানত রক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক উৎকর্ষ সাধনে শিক্ষক ও কমিটির যৌথ শপথ
মাদ্রাসার প্রতিটি পদক্ষেপকে যুগোপযোগী ও বরকতময় করে তুলতে সার্বক্ষণিক অনুসরণীয় দিকনির্দেশনা:
- •১. শিক্ষার্থীদের আত্মিক ও চারিত্রিক তারবিয়াত নিশ্চিতকরণ: শুধু পাঠ্যবই বা মুখস্থ করানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষার্থীদের খাঁটি সুন্নাহভিত্তিক চরিত্র ও বিনয়ী আখলাক গঠনে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া।
- •২. প্রাতিষ্ঠানিক সমস্ত তথ্যের চিরস্থায়ী ক্লাউড সংরক্ষণ: প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অগ্নিকাণ্ড বা খাতা হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে সমস্ত একাডেমিক ফলাফল, ফি আদায় ও ছাত্র প্রোফাইল ডিজিটাল ডাটাবেজে সংরক্ষণ করা।
- •৩. শিক্ষক-অভিভাবক আস্থা ও পারস্পরিক সম্মান বৃদ্ধি: শিক্ষার্থীদের মেধা ও দুর্বলতার বিষয়ে নিয়মিত খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে দ্বিমুখী সহযোগিতার সেতুবন্ধন রচনা করা।
JamiaSoft টিম
মাদ্রাসা ডিজিটালাইজেশন বিশেষজ্ঞ
JamiaSoft-এর সম্পাদক ও প্রযুক্তি দল — বাংলাদেশের কওমি, আলিয়া ও হিফজ মাদ্রাসার শরয়ী ফিন্যান্স, হিফজ ট্র্যাকিং ও ডিজিটাল অ্যাডমিশন নিয়ে নিয়মিত গাইড ও গবেষণা প্রকাশ করে।
আরও বিষয়ভিত্তিক গাইড:
আর্টিকেলটি ভালো লাগলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন
দ্বীনি প্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসার আর্থিক আমানতদারিতা ও আধুনিকায়নে তথ্যগুলো ছড়িয়ে দিন।
সম্পর্কিত প্রবন্ধ

মাদ্রাসায় ক্যাশলেস ক্যাম্পাস: নগদ টাকা ছাড়াই বেতন, মেস ফি ও অনুদান আদায়ের রোডম্যাপ
কওমি ও আবাসিক মাদ্রাসায় নগদ টাকা ছাড়াই ছাত্রের বেতন, মেস ফি, অনুদান ও শিক্ষক বেতন পরিচালনার ক্যাশলেস ক্যাম্পাস বাস্তবায়ন রোডম্যাপ।

মাদ্রাসার মাসিক ফি বিল ও রসিদ অটোমেশন: ১ ক্লিকে শত ছাত্রের বিল তৈরি ও ডিজিটাল ভাউচার গাইড
মাদ্রাসার শত শত ছাত্রের মাসিক বেতন বিল, রসিদ ও ভাউচার ম্যানুয়ালি কাটার ঝামেলা শেষ—১ ক্লিকে অটো বিল ও ডিজিটাল রসিদ তৈরির পূর্ণ গাইড।

মাদ্রাসায় স্বয়ংক্রিয় বেতন ও ফি আদায়: বিকাশ-নগদ পেমেন্ট থেকে অটো SMS রিমাইন্ডার পর্যন্ত সম্পূর্ণ গাইড
মাদ্রাসার বেতন ও ফি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আদায়, বিকাশ-নগদ পেমেন্ট গেটওয়ে, অটো SMS রিমাইন্ডার ও শরয়ী ফান্ড বিভাজনসহ A-Z গাইড।
আপনার মাদ্রাসায় JamiaSoft ব্যবহার করতে চান?
হিফজ ট্র্যাকিং, শরয়ী ফিন্যান্স ও অনলাইন ভর্তির আধুনিক অভিজ্ঞতা পেতে আজই ফ্রি ডেমো বুক করুন।